অধ্যক্ষ ডাঃ এস এম মুসতানজীদ কে সম্মাননা প্রদান

বাদশা আলমগীর: ‘হৃদয়ে আমার যুক্তির হাওয়া, মুক্তি চিরদিন’ এই শ্লোগানে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন (এনডিএফ বিডি) এর বিতর্ক উৎসবের আয়োজন করে। বাংলাদেশের ৪২টি মেডিকেল কলেজের প্রায়্ পাঁচ শতাধিক বিতার্কিক অংশগ্রহন করে। দুই দিনব্যাপী এই বিতর্ক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ এস এম মুসতানজীদ। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে চিকিৎসাশাস্ত্রে অসামান্য অবদান রাখায় এনডিএফ এর পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা পদক পেলেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ এস এম মুসতানজীদ। পদক প্রদান করেন বিআরবি গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রজ এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মজিবর রহমান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হারুন-উর রশিদ আসকারী, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, এনডিএফ বিডি এর চেয়ারম্যান একেএম শোয়েব।

ইতি পূর্বে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল ও পরিচালক ন্যাশনাল ইনষ্টিটিউট অব নিওরো সায়েন্স হাসপাতালের প্রফেসর ডাঃ কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, চীফ কন্সালটেন্ট, অর্থোপেডিক বিভাগ, ল্যাব এইড হাসপাতাল, ঢাকা ও বাংলাদেশ প্রথম যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসক সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটি ডাঃ আমজাদ হোসেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস-চ্যন্সেলর প্রফেসর ডাঃ কামরুল ইসলাম, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল, ভাইস চ্যান্সেলর রাজশাহী মেডিকেল ইউনিভার্সিটি প্রফেসর ডাঃ মাসুম হাবিব এই আজীবন সম্মাননা পদক পান।

এবারে আজীবন সম্মাননা পদক পেয়েছেন কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ এস এম মুসতানজিদ। পারিবারিক ঐতিহ্য লালিত অবসরপ্রাপ্ত জেলা রেজিষ্টা্র মরহুম আব্দুল মজিদ এবং সমাজসেবী মরহুমা তহমিনা আক্তার বানু’র জৈষ্ঠপুত্র অধ্যাপক ডাঃ এস.এম. মুসতানজীদ ১৯৬১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারার গোলাপনগরে জন্ম গ্রহন করেন। পিতামহ তদানন্তিন বৃটিশ রেলওয়ের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। পিতার বদলীর চাকুরীর কারনে ডাঃ মুসতানজীদ দেশের বিভিন্ন স্কুলে পড়াশুনা করেছেন । ১৯৭৫ সালে চুয়াডাঙ্গার ভি. জে স্কুল থেকে এস.এস,সি এবং রাজশাহী কলেজ থেকে ১৯৭৭ সালে এইচ.এস.সি পাশ করেন। ডাঃ মুসতানজীদ ১৯৮৩ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এম.বি.এিস ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ান এন্ড সার্জন (ইঈচঝ) থেকে সার্জারী বিষয়ে ¯œাতকোত্তর এফসিপিএস ডিগ্রি লাভ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ডাঃ মুসতানজীদ জয়পুরহাটের খঞ্জনপুর মিশন স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। তিনি তার পরিবারের সাথে ঐ সময় ভারতে চলে যান, এবং পশ্চিমবঙ্গের হিলি অঞ্চলের কামারপাড়া মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে অবস্থান করে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আসাদুজ্জামান ওরফে বাঘা বাবলু’র ( মুল বাড়ি , রথখোলা, আমলাপাড়া কুষ্টিয়া) দলের কিশোর সদস্য হিসাবে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় সহযোগিতা করেন। অধ্যাপক ডাঃ মজুসতানজীদ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হ্নদয়ে ধারন ও লালন করেন আর তাই তো তিনি অদ্যাবধি মুক্তিযোদ্ধা বা তার স্ত্রী কে বিনামুল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। ১৯৯৬ সালে তিনি বাংলাদেশ কলেজ অব পিজিসিয়ান এন্ড সার্জন (ইঈচঝ) থেকে সার্জারী বিষয়ে ¯œাতকোত্তর এফসিপিএস ডিগ্রি লাভ করার পর তিনি ওচএগজ এ গবেষনা সহকারী এবং পরবর্তীতে আর.এস জেনারেল হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করেন । তিনি ১৯৯৯ সালে সরকারী চাকুরীর অপশন দিয়ে নিজ এলাকায় স্বাস্থ্য সেবা দিতে কুিষ্টয়া সদর হাসপালে সার্জারী বিভাগের কনসালটেন্ট হিসাবে যোগদান করেন। ২০০৪ সাল থেকে তিনি সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসাবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে দ্বায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সাল থেকে তিনি কুষ্টিয়া মেডিকেল কেেলজের সার্জারী বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। অধ্যাপক ডাঃ এ.এম মুসতানজীদ বর্তমানে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। অধ্যাপক ডাঃ এস.এম.মুসতানজীদ বর্তমানে কুষ্টিয়া বিএমএ এর নির্বাচিত সভাপতি । তিনি বিএমএ কে আরো গতিশীল করার জন্য কাজ করে চলেছেন।

উল্লেখ্য তিনি ফ্রান্স , জাপান, কানাডা, থাইল্যান্ড সহ অনেক দেশে চিকিৎসা বিজ্ঞান বিষয়ক সেমিনার/ কর্মশালায় যোগ দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, অষ্ট্রিয়া, মালোশিয়া সহ পৃথিবীর অনেক দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষন করেছেন। একজন শৈল্য চিকিৎসক হিসাবে তিনি এ যাবৎ প্রায় ৮০ হাজারেরও বেশী রুগী দেখেছেন, অপারেশন করেছেন প্রায় ৩০,০০০ । অধ্যাপক ডাঃ মুসতানজীদ , চিকিৎসকদের যে কোন সংকট বা দুঃসময়ে তাদের পাশে দাড়ান,বাড়িয়ে দেন সহযোগিতার হাত।

Print Friendly, PDF & Email
×

সারা বাংলা সারা দিন-এর সাথেই থাকুন!