অ্যানড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন, হার্ডওয়্যার ও হালনাগাদ সূচি

অ্যাপ্লিকেশন (“অ্যাপস”):
অ্যানড্রয়েড অ্যাপস এমন একটি মাধ্যম যা যন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, অ্যানড্রয়েড সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কিট (এসডিকে) এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জাভা প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করে লেখা হয়। গোপ্রোগ্রামিং ভাষাও সমর্থন করে, যদিও অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস এর একটি সীমিত সেটের জন্যে। মে ২০১৭ সালে, গুগল কোটলিন প্রোগ্রামিং ভাষা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের জন্য ব্যবহার করা যাবে বলে ঘোষণা দেয়। ডিডিব্লগার, সফটওয়্যার লাইব্রেরি, কিউইএমইউ, ডকুমেন্টেশন, নমুনা কোড এবং টিউটোরিয়াল-এর উপর ভিত্তি করে একটি হ্যান্ডসেট এমুলেটর সহ এসডিকে-এর মধ্যে একগুচ্ছ ডেভেলপমেন্ট হাতিয়ার রয়েছে। প্রাথমিকভাবে, গুগল এর সমর্থিত ইন্টেগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট এনভায়রনমেন্ট ছিলো এক্লিপ্স; কিন্তু ডিসেম্বর ২০১৪ সালে, গুগল অ্যান্ড্রয়েড স্টুডিওটি প্রকাশ করে, যা ইন্টেলি জে আইডিয়া-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল, এবং অ্যানড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের জন্যে ডিফল্ট আইডিই হিসাবে ব্যবহার শুরু হয়। অন্যান্য ডেভেলপমেন্ট হাতিয়ারগুলো হল নেটিভ ডেভেলপমেন্ট কিট এপ্লিকেশনের জন্য অথবা সি বা সি++ এর এক্সটেনশন, গুগল এ্যপ ইনভেন্টর, নবীন প্রোগ্রামারদের জন্য একটি দৃশ্যমান পরিবেশ, এবং আরো অনেক ক্রস প্লাটফর্ম ভিত্তিক মোবাইল ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক। জানুয়ারি ২০১৪ সালে গুগল এ্যপাচি কর্ডোবা ভিত্তিক ফ্রেমওয়ার্ক উন্মুক্ত করে যার মাধ্যমে গুগল ক্রোম এইচটিএমএল ৫ ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন অ্যানড্রয়েডে আনা যাবে যাতে আবার একটি নেটিভ অ্যাপ্লিকেশন শেলও রয়েছে।

অ্যানড্রয়েড ব্যবহারকারী অফিশিয়াল অ্যাপস্টোর(গুগল প্লে স্টোর) বা অন্য যেকোন ওয়েবসাইট থেকে এপিকে ডাউনলোড করে তা ইন্সটল করতে পারে। গুগল ছাড়াও তৃতীয় পক্ষের অনেক ডেভেলপার অ্যানড্রয়েডের জন্যে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ডেভেলপ করে থাকে। গুগল প্লে স্টোর হলো চিনের বাইরে অন্য অ্যানড্রয়েড যন্ত্রগুলোর প্রাথমিক অ্যাপ্লিকেশন স্টোর, যা গুগলের অনুমতিপত্রেরই নির্দেশন দেয়। গুগল প্লে স্টোর ব্যবহারকারীদের গুগল এবং তৃতীয় পক্ষের ডেভেলপারদের দ্বারা প্রকাশিত অ্যাপ্লিকেশনগুলি ব্রাউজ, ডাউনলোড এবং হালনাগাদ করতে পারে। ২০১৭ সালের এক হিসাবে, গুগল প্লে স্টোরে ৩৫ লক্ষেরও বেশি অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। এবং ২০১৭ সালের আরেক হিসাবে এপর্যন্ত ৮২০০ কোটিবার অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড হয়েছে। মে ২০১৭ সালের হিসাবে, জিমেইল, অ্যান্ড্রয়েড, ক্রোম, গুগল প্লে এবং গুগল ম্যাপের মাসে ১০০ কোটি সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে।

অ্যানড্রয়েডের ওপেন সোর্স প্রকৃতির কারণে, গুগল প্লে স্টোর ছাড়া একাধিক তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ্লিকেশন স্টোর এপ্লিকেশনের জন্যে রয়েছে, যা যেসব যন্ত্র গুগলের সার্ভিসসহ শিপ হওয়ার সুবিধা পায় না তাতে কাজে লাগে। এই তৃতীয় পক্ষের স্টোরেজগুলোর মধ্যে আমাজন অ্যাপস্টোর, গেটজার, মি এপ স্টোর এবং স্লাইডমি অন্তর্ভুক্ত। এফ-ড্রয়েড, আরেকটি বিকল্প মার্কেটপ্লেস, যেটা শুধুমাত্র বিনামূল্য ও ওপেন সোর্স অ্যাপ্লিকেশনগুলো সরবরাহ করে।

অ্যানড্রয়েড হার্ডওয়্যার:

অ্যানড্রয়েডের জন্য প্রধান হার্ডওয়্যার প্ল্যাটফর্ম হলো এআরএম (এআরএম সংস্করণ ৭ এবং এআরএম সংস্করণ ৮-এ আর্কিটেকচার), এক্স৮৬, এমআইপিএস এবং এমআইপিএস৬৪ এবং এক্স৮৬-৬৪আর্কিটেকচার যা অ্যানড্রয়েডের পরবর্তী সংস্করণগুলোও সমর্থন করে। আনফিশিয়াল অ্যানড্রয়েড-৮৬ প্রোজেক্ট এক্স৮৬ আর্কিটেকচারের জন্যে সাপোর্ট প্রদান করে। ২০১২ সাল থেকে ইনটেল প্রসেসর যুক্ত অ্যানড্রয়েড ডিভাইস (ট্যবলেট এবং ফোন) বাজারে আসা শুরু করে । ৬৪ বিটের জন্য সাপোর্ট পাওয়ার পর অ্যানড্রয়েড প্রথন ৬৪ বিট এক্স৮৬ এর জন্য সাপোর্ট পায়, তারপর এআরএম৬৪ এর জন্য। অ্যানড্রয়েড ললিপপ সংস্করণ থেকে ৩৪ বিটের সাথে সাথে ৬৪ বিটের জন্যেও সাপোর্ট পেয়ে আসছে

অ্যানড্রয়েড ৮.১ বা তার উপরের সংস্করণের জন্যে ন্যূনতম ১ এবং মানসম্মর কার্যক্ষমতার জন্য ২জিবি র্যামের প্রয়োজন। আর একেবারে সর্বনিন্ম ৫১২ এমবি র্যাম প্রয়োজন ৩২ বিট যন্ত্রের জন্য। অ্যানড্রয়েড ৪.৪ কিটক্যাট সংস্করনের জন্য ৫১২ এমবি র্যাম প্রয়োজন। অ্যানড্রয়েড ৪.৪ কিটক্যাট সংস্করনের জন্য একটি ৩২ বিট এআরএম সংস্করন ৭, এমআইপিএস অথবা এক্স৮৬ স্থাপত্যের প্রসেসর এবং সাথে ওপেনজিএলএস ২.০ সাপোর্ট করা জিপিইউ(গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট) প্রয়োজন হয়। অ্যানড্রয়েড ৭.১ ভালকান থেকে ওপেনজিএল ইএস ১.১, ২.০ ,৩.০ ,৩.১ সাপোর্ট করে। কিছু অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের জন্য নির্দিষ্ট সংস্করনের ওপেনজিএল ইএস ও নির্দিষ্ট গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট প্রয়োজন।

অ্যানড্রয়েড  এর হালনাগাদ সূচি:

গুগল বছরের ভিত্তিতে মেজর আপডেট বা প্রধান হালনাগাদগুলো দেয়, যা ওভার দ্য এয়ার বা ওটিএ-র মাধ্যমে ইন্সটল করা যায়। বর্তমানের সর্বশেষ সংস্করণ হল পাই ৯.০। এর পূর্বের সংস্করণগুলো ছিল ওরিও ৮.০, নোগাট ৭.০ ও মার্শমেলো ৬.০।

গুগল নিজস্ব নেক্সাস ও পিক্সেল ফোন ছাড়া অন্যান্য প্রস্তুতকারকের যন্ত্রে এপলের আইওএসের তূলনায় অ্যানড্রয়েড হালনাগাদ দেরিতে আসার বদনাম রয়েছে, যার পেছনে অন্যতম কারণ এর হার্ডওয়্যারের বৈচিত্র। প্রস্তুতকারকরা মাঝেমধ্যে নতুন যন্ত্রকে গুরুত্ব দেন এবং পুরোনো যন্ত্রে হালনাগাদ দিতে চান না, এর পেছনে যদিও ব্যবসায়িক স্বার্থও কাজ করে। তবে নকিয়া, সনি, মোটরলাসহ কিছু প্রস্তুতকারক অত্যন্ত দ্রুত এবং অনেক পুরোনো ডিভাইসেও হালনাগাদ প্রদান করার অঙ্গিকার দিয়ে থাকে। যেক্ষেত্রে আবার স্যামসাং, শাওমি, হুয়াওয়ে, এইচটিসিসহ অনেক প্রস্তুতকারককে অনাগ্রহী দেখা যায়।

২০১২ সাল থেকে অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের নির্দিষ্ট অংশ, বিশেষত এর কোর অ্যাপ্লিকেশনগুলো এমনভাবে পরিবর্তন করে যাতে তা অপারেটিং সিস্টেমে পরিবর্তন না এনেও গুগল প্লে সার্ভিসের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে হালনাগাদ করা যায়। ২০১৬ সালে বুমবার্গ রিপোর্ট করে যে গুগল অ্যানড্রয়েডকে আরও হালনাগাদ রাখার জন্যে গবেষণা করছে, নিরাপত্তা হালনাগাদ ত্বরিতান্বিত ও আগের তূলনায় কম ফোনে টেস্টিং এর মাধ্যমে। ২০১৭ সালে অ্যানড্রয়েড ৮.০ ওরিও ঘোষনার মাধ্যমে গুগল প্রজেক্ট ট্রেবলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। প্রজেক্ট ট্রেবল অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ফ্রেমওয়ার্কে একটি মেজর পরিবর্তন আনে যা প্রস্তুতকারকদের জন্যে নতুন হালনাগাদকে আরও কম ব্যয়ে ও দ্রুত প্রদানের সুবিধা দেয়।

লিনাক্স কার্নেল

অ্যানড্রয়েড কার্নেল লিনাক্স কার্নেলের একটি দীর্ঘ সমর্থিত শাখা বা এলটিএস এর উপর ভিত্তি করে নির্মিত। ২০১৭ সালের হিসাব মোতাবেক, অ্যানড্রয়েড যন্ত্রাংশগুলো প্রধানত লিনাক্স কার্নেল সংস্করণ ৩.১৮ অথবা ৪.৪ ব্যবহার করছে। কিন্তু মূল কার্নেল যন্ত্রের উপর নির্ভর করে। অ্যানড্রয়েড ১.০ সংস্করণে ২.৬.২৫ কার্নেল ব্যবহারের পরে কার্নেলের অনেক সংস্করণই ব্যবহার করা হয় গুগলের ওপেন সোর্স চিপ ক্রিস ডিবোনা, লিনাক্স ফাউন্ডেশন এবং অনেক সাংবাদিকদের মতে অ্যানড্রয়েড একটি লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন। আবার অনেকে , যেমন গুগলের প্রকৌশলি প্যাট্রিক ব্র্যাডি, মনে করেন ধ্রুপদী ইউনিক্স মর অপারেটিং সিস্টেমের হিসাবে অ্যানড্রয়েড লিনাক্স ডিস্ট্রো নয়। অ্যানড্রয়েডে জিএনইউ সি লাইব্রেরি নেই এবং আরও অনেক কিছু নেই যা সাধারনত একটি লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনে থাকে। অ্যানড্রয়েড ওরিও প্রকাশের পর গুগল জানাচ্ছে যে নতুন যে সিস্টেম-অন-চিপগুলো তৈরি হচ্ছে তাতে যেন নিরাপত্তার প্রয়োজনে লিনাক্স সংস্করন ন্যূনতম ৪.৪ থাকে। যে পুরোনো যন্ত্রগুলো বর্তমানে ওরিওতে আপগ্রেড হয়েছে বা যেসব যন্ত্রে পুরোনো সিস্টেম-অন-চিপ ব্যবহার করা হয়েছে, তাদের জন্য অবশ্য এ নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

সফটওয়্যার স্ট্যাক:

লিনাক্স কার্নেলের ছাড়াও অ্যানড্রয়েডে মিডলওয়্যার, সফটওয়্যার লাইব্রেরি এবং অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) রয়েছে যা সি এর ব্যবহার হয়েছে। এছাড়া রয়েছে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার যা চলছে অ্যাপ্লিকেশন ফ্রেমওয়ার্কে যার মধ্যে আছে জাভা সমর্থিত এ্যপাচি হারমোনি ভিত্তিক লাইব্রেরি। লিনাক্স কার্নেলের উন্নয়ন অন্যান্য ডেভেলপাররা গুগলের উৎস কোড থেকে স্বাধীনভাবে করে থাকে। অ্যানড্রয়েড ৫.০ সংস্করণের আগে পর্যন্ত অ্যানড্রয়েড প্রকিয়াকরণ ভার্চুয়াল মেশিনের জন্য ডেলভিক] জেআইটি কম্পাইলেশন ব্যবহার করত “ডেস্ক-কোড” চালাতে যা সাধারনত জাভা বাইটকোড থেকে ভাষান্তর করা হত। জেআইটি নীতি মেনে ডেলভিক প্রতিবার একটি এ্যপ্লিকেশন চালু হলে কম্পাইলেশন করত। অ্যানড্রয়েড ৪.৪ সংস্করণে অ্যানড্রয়েড রানটাইম (এআরটি) প্রবর্তন করা হয় নতুন রানটাইম এনভায়রনমেন্ট হিসেবে যা এহেড-অব-টাইম (এওটি) কম্পাইলেশন ব্যবহার করে বাইটকোড কম্পাইল করার জন্য। অ্যানড্রয়েড ৪.৪ সংস্করণে এআরটি ছিল একটি পরীক্ষামূলক বৈশিষ্ট্য এবং আগে থেকেই সচল করা ছিল না। অ্যানড্রয়েড ৫.০ সংস্করণে এটিকে একমাত্র রানটাইম হিসেবে রাখা হয়েছে

Print Friendly, PDF & Email
×

সারা বাংলা সারা দিন-এর সাথেই থাকুন!