উচ্ছেদ অভিযান: মাছ ধরার মহোৎসব

রাজধানীর তুরাগে নদীর তীরে উচ্ছেদ অভিযানের ২৩তম দিনে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। তুরাগ সংযুক্ত একটি খাল উদ্ধারে শুরু হয় মাছ ধরার মহোৎসব। নদী ও খালের মাঝে তৈরি কারা বাঁধ খুলে দিলে খালের পানি নদীতে নেমে আসে। পানি কমতে না কমতেই বিভিন্ন প্রজাতির মাছের লাফ ঝাপ শুরু করে। এসময় মুহুর্তের মধ্যে শত শত উৎসুক জনতা নেমে পড়ে মাছ ধরতে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যখন পানি কমে যাওয়ার ফলে মাছগুলো লাফালাফি শুরু করে, তখন পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছিল গ্রামের কোনো পুকুরে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা বা উৎসব চলছে। এই উৎসবে যোগ দেয় শত শত মানুষ। 

বুধবার তুরাগ নদী দখলমুক্ত করতে বিআইডাব্লিউটিএ’র উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে সাভারের কাউন্দিয়ার কুমারপাড়া এলাকায়।

উচ্ছেদ অভিযানের দ্বিতীয় পর্বের চতুর্থ পর্যায়ের দ্বিতীয় দিনে খাল উদ্ধারসহ মোট ২৯টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এরমধ্যে একটি তিন তলা পাকা ভবন, চারটি দোতলা, ১২টি একতলা ভবন উচ্ছেদ করা করা হয়। এছাড়া সাতটি আধা পাকা ও পাঁচটি টিনের ঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিআইডাব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন।

এসময় প্রায় এক একর নদীর জায়গা দখলমুক্ত হয়েছে বলেও তিনি জানান।

বৃহস্পতিবার  উচ্ছেদ অভিযানের দ্বিতীয় পর্বের শেষ দিনে মিরপুর বেরিবাঁধের সিন্নিরটেক এলাকা হতে আপষ্ট্রীমে তুরাগ নদীর উভয় পাড়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে বিআইডাব্লিটিএ জানায়।

এর আগে প্রথম পর্বে ১২ কার্যদিবসে মোট এক হাজার ৭২১টি স্থাপনা উচ্ছেদ করে বিআইডাব্লিটিএ। এরপর ১২ কার্যদিবসে দ্বিতীয় পর্বের উচ্ছেদ অভিযান হাতে নেয় সংস্থাটি। ২৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। অভিযানের দ্বিতীয় পর্ব শেষে পুনরায় ১২ কার্যদিবসে চলবে তৃতীয় পর্বের অভিযান। 

বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদের ৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পরিচালিত অভিযানের পর তীরভূমি সংস্থার করে দশ হাজার সীমানা পিলার স্থাপনের কথা রয়েছে। এরপর নদীর নাব্য নদীকে ফিরিয়ে দিতে নদীতে ড্রেজিং করার কথা জানিয়েছে বিআইডাব্লিউটিএ। 

নদী তীরভূমি অংশকে সংরক্ষণ এবং ঢাকাবাসীর জন্য নদীকে বিনোদনের জায়গা হিসেবে পরিচিত করতে ৮৫০ কোটি টাকার ব্যয়ের প্রকল্প  হাতে নেয়া হয়েছে বলে সংস্থাটি জানায়। এরমধ্যে নদীর পাড় বাঁধাই, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, সবুজায়ন, লাইটিং এবং ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণের কথা রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
×

সারা বাংলা সারা দিন-এর সাথেই থাকুন!