এখনও জমেনি ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

পুরো মাত্রায় প্রাণ পায়নি ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। দর্শনার্থী আনাগোনা কম। দিনের দ্বিতীয়ার্ধে উপস্থিতি কিছুটা বাড়লেও নেই তেমন বিক্রিবাট্টা। দিনে দুই লাখ দর্শনার্থী উপস্থিতির যে আশা করছেন আয়োজকরা তার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। সরেজমিন দেখা গেছে, দর্শক-ক্রেতা উপস্থিতি ছিল কম। গতকালও অনেক স্টল এবং প্যাভিলিয়ন নির্মাণ এবং পণ্য সাজাতে ব্যস্ত ছিলেন অংশগ্রহণকারীরা। তবে মেলার ছোটো ছোটো স্টলের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। দর্শক সমাগম কম থাকায় বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়নে কর্মরতরা অলস সময় পার করছেন।

মেলায় আসা দর্শনার্থী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেট্রোরেলের কাজের জন্য মেলাকেন্দ্রিক রাস্তা সংকীর্ণ, মেলায় প্রবেশের টিকিটের দাম বাড়ানো এবং অনেক স্টলের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় এখনও জমে ওঠেনি মাসব্যাপী এ বাণিজ্য মেলা। তবে দর্শনার্থীদের এমন খরায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মেলার ইজারা প্রতিষ্ঠান। তারা বলছেন, এবারের মেলায় গেল বছরের তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যা অনেক কম। ইজারা নিয়ে লোকসানের কবলে পড়তে হয় কি না কে জানে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুরুর দিকের কয়েক দিন ক্রেতা দর্শনার্থীর সংখ্যা কম থাকে। এ সময় প্যাভিলিয়ন ও স্টল গোছগাছেই সময় ব্যয় হয় বেশি। তবে আগামী শুক্রবার থেকে পুরো মাত্রায় শুরু হবে বিক্রি। তাই বিক্রেতারা সাপ্তাহিক ছুটির দিনের অপেক্ষায় রয়েছেন। আর দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, এখন চলছে পণ্য পরখের কাজ, শেষ দিকে শুরু হবে কেনাকাটা। কারণ তখন প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড় দেবে বেশি বেশি।

প্রতি বছরের মতো এবারও আগারগাঁওয়ে বছরের প্রথম দিন থেকে শুরু হয়েছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। ১ জানুয়ারি (বুধবার) শুরু হওয়া এবারের মেলায় দর্শনার্থীদের প্রবেশ মূল্য কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। মেলায় প্রবেশে প্রাপ্তবয়স্কদের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ টাকা, যা গেল বছর ছিল ৩০ টাকা। তবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের টিকিটের মূল্য আগের মতোই ২০ টাকা রাখা হয়েছে। তবে পাঁচ দিন পার হলেও মেলায় সব স্টল তৈরির কাজ এখনও শেষ হয়নি।

শেওড়াপাড়া থেকে মেলায় আসা রোকেয়া বেগম বলেন, মেলার আয়োজকদের উচিত এমন ধরনের পদক্ষেপ নেয়ওা যাতে, মেলা শুরু হওয়ার আগেই অংশগ্রহণকারী সব স্টলের কাজ সম্পন্ন হয়। মেলায় এসে স্টল তৈরির কাজ দেখা বিরক্তিকর। কয়েক বছর ধরেই মেলার প্রথম দিকে আসি। প্রতিবারই দেখি অনেক স্টল এখনও তৈরি করা হয়নি। মেট্রোরেলের কাজ চলায় মিরপুর থেকে মেলায় আসতে বড় ধরনের যানজটে পড়তে হয়। এটাও মেলায় দর্শনার্থী কম হওয়ার একটি কারণ হতে পারে।

দর্শক সমাগম কম থাকায় মেলায় ব্যাংকিং সেবা দিতে আসা বিভিন্ন ব্যাংক কর্মকর্তারাও অলস সময় কাটাচ্ছেন। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মেলায় স্বাভাবিক ভিড় শুরু হলে লেনদেন প্রায় সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা পুরোদমে দিতে পারবেন বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা। তবে যারা ভিড় পছন্দ করেন না এমন দর্শকরা ছুটির দিন বাদে অন্যদিন সকালে মেলায় এসেছেন।

একটি স্টলের বিক্রেতা বলেন, গেল বছরের সঙ্গে তুলনা করলে এবার মেলায় ক্রেতার সংখ্যা অনেক কম। পাঁচ দিন পার হলেও বিক্রি তেমন একটা হয়নি। তবে সামনের ছুটির দিনে বিক্রি বাড়বে বলে তিনি আশা করেন।
মেলা সূত্র জানায়, নতুন বছরের শুরুর দিন চালু হওয়া এ মেলা আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। আর গেল বছরের তুলনায় এবার কমানো হয়েছে স্টলের সংখ্যা। গেল বছর ৬৩০টি স্টলের পরিবর্তে এবার করা হয়েছে ৪৮৩টি। অর্থাৎ স্টল কমেছে ১৫৯টি। এবারের স্টলের মধ্যে রয়েছে ১১২টি প্যাভেলিয়ন, ১২৮টি মিনি প্যাভেলিয়ন এবং ২৪৩টি বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল।

এ বছর ২১টি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিচ্ছে। দেশগুলো হচ্ছেÑ ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইরান, তুরস্ক, মরিশাস, ভিয়েতনাম, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়া।

খাবারের দোকানগুলোর জন্য খাবারের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। মেলায় খাবারের দাম যেন বেশি রাখা না হয়, সে ব্যাপারে কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ থাকবে। ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে মেলায় রয়েছে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। যানবাহন পার্কিংসহ মেলায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। রয়েছে ২টি মা ও শিশুকেন্দ্র, শিশুপার্ক ও ব্যাংকের পর্যাপ্ত এটিএম বুথ।

Print Friendly, PDF & Email