কেশবপুরে পিকনিকের বাস উল্টে নিহত ১ আহত ৩০

সোমবার সকালে কেশবপুর-সরসকাটি-সড়কের ভালুকঘর এলাকায় একটি পিকনিকের বাস উল্টে পুকুরের পানিতে পড়ে সাব্বির নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। এ সময় বাসের প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছে। আহতদের ১৪ জনকে কেশবপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়েছে।

আহতদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাতক্ষীরার বাউকোলা ও আগরদাড়ি গ্রামে লোকজন বাগেরহাটে পিকনিকে যাচ্ছিল। ভোরের কুয়াশা ও হেলপার বাস চালানোর কারনে সাথী পরিবহনের (সাতক্ষীরা-জ ১১-০০৯২) বাসটি কেশবপুরের ভালুকঘর বালির পুকুর নামক জায়গায় নিয়ন্ত্রন হারিয়ে সড়কের পাশে পুকুরের পানিতে উল্টে যায়। এলাকাবাসি বাসের গ্লাস ভেঙ্গে সকলকে উদ্দার করলেও মায়ের কোলে থাকা ৫ বছরের সাব্বিরকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে সাব্বির একটি সিটে আটকে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। উদ্ধারের পর সাব্বিরকে কেশবপুর হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষনা করেন। নিহত সাব্বিরের কোলে নিয়ে তার মায়ের হাহাজারিতে এ সময় বাতাস ভারি হয়ে উঠে। সাব্বির বাউকোলা গ্রামের কামরুল ইসলামের পুত্র। বাসের ৪৩ জন যাত্রীর সবায় কমবেশী আহত হয়েছে। আহতরা হলো আনিকা (১৫ মাস), ফারহানা (১৬), রুহী (১৪ মাস), সোহাদা (২৫), জুলেখা (১৫), শিরিনা (১৮), শামিউল (১০), মোস্তাকিন (১২), ঝুমৃর (১৮), সোহাগ (২৬), শহর ভানু (৪০), মারিয়া (১৭), সাজু (১৬), ও রাজিয়া বেগম (৫০)।

আহতদের মধ্যে আনিকা, রুহী ও মোস্তাকিনকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

ঘটনার পরপরই কেশবপুর থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের মনিরামপুর ইউনিট বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা করছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান হাসপাতালে নিহত ও আহতদের দেখতে পরিদর্শন করেছেন। গাড়ির চালক পালিয়েছে। আহতরা জানিয়েছেন হেলপার গাড়ি চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলে।

Print Friendly, PDF & Email
×

সারা বাংলা সারা দিন-এর সাথেই থাকুন!