প্রধান শিক্ষক বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের লিখিত অভিযোগ

কুষ্টিয়া স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক
রুহুল আমীন
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমীন

বাদশা আলমগীর , কুষ্টিয়া থেকে: কুষ্টিয়া সদর উপজেলার স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমীনের বিরুদ্ধে ঘুষ বানিজ্যের লিখিত অভিযোগ করেছে দুই নিয়োগ পরীক্ষার্থী।

তারা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগকারী সেলিম রেজা, পিতা: শমসের আলী, ক্রমিক নং- ১২, সাং- বেলঘোড়িয়া, থানা ও জেলা: কুষ্টিয়া, অপরজন আল-আমিন, পিতা: মনিরুল ইসলাম, ক্রমিক নং- ১১, সাং- স্বস্তিপুর, থানা ও জেলা: কুষ্টিয়া।

গত ১৩ মার্চ কুষ্টিয়া জেলা স্কুলে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগকারীগণ অভিযোগে উল্লেখ করেন, স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গত ২৪শে জুন ২০১৮ ইং তারিখে সার্কুলার দেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে।

উক্ত পদে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রবেশপ্রাপ্তি হয়।

প্রবেশপত্রে পরীক্ষার স্থান কুষ্টিয়া জেলা স্কুল, পরীক্ষার সময় দুপুর ২.৩০ মিনিট নির্ধারন করা হয়। কিন্তু উক্ত দিনে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হাতে লেখা ফটোকপি ছিল এবং পরীক্ষা নির্দিষ্ট দুপুর ২.৩০ ঘটিকার পরিবর্তে কোন নিদের্শনা ছাড়ায় বা কোন নিয়ন কানুন না মেনে আইন ভঙ্গ করে বিকাল ৩.৩০ ঘটিকায় নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং যে প্রার্থী প্রথম স্থান অধিকার করেছে তিনি প্রধান শিক্ষক রুহুল আমীনের সাথে যোগ সাজশ করে পরীক্ষা দেন। পরীক্ষার হলে আইনগত ভাবে গার্ড দেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমীন যোগ সাজশ করে মোটা অংকের টাকা গ্রহন করে উপরোক্ত বেআইনি কার্যক্রম করেছে। যা সর্ম্পূর্ন বেআইনি ও দন্ডনীয়।

সেই কারনে বিদ্যালয়ের নিয়োগ সম্পূর্ণ বেআইনি হওয়ায় নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল পূর্বক পূনঃ নিয়োগ দাবী করে অভিযোগকারী।

উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছেন ম্যানেজিং কমিটি। জানা যায়, গত ১৩ ই মার্চ দুপুর আড়াইটায় কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ পরীক্ষা হয়।

পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ৭ জন। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেনকে ১ম ঘোষণা দেন। কিন্তু ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের দাবি প্রধান শিক্ষক ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে আলমগীর হোসেনকে ১ম বানিয়ে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

এদিকে রেজাল্ট সিটে ম্যানেজিং কমিটি ও নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি এবং সদস্য কারো স্বাক্ষর নেই। কিন্তু রেজুলেশন খাতায় জালিয়াতির অভিযোগে করেছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম। স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি খোরশেদ আলম জানান, নিয়োগ পরীক্ষার জন্য দুপুর ১ টার সময় একটি রেজুলেশন করা হয় সেই রেজুলেশনে পরিক্ষার অনুমতি জন্য।

কিন্তু প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন জালিয়াতি করে রেজুলেশনে রেজাল্ট উল্লেখ করে আলমগীর হোসেনকে পাশ করিয়ে দেয়।

আমি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সময় উপস্থিত না থাকার সুযোগ নিয়েছে প্রধান শিক্ষক। এই জন্য আমি রেজাল্ট সিটে সাক্ষর করিনি। পরে জেনেছি প্রধান শিক্ষক মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আলমগীর হোসেনকে ১ম বানিয়ে দিয়েছে।

আলমগীর হোসেন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে এই খবরটি আমাকে দেয়া হয় দুদিন পরে। তিনি দাবি করেন স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আবারো নিয়োগ পরীক্ষার জন্য।একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ইতিপূর্বে প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমানকে নিয়োগ দেয়ার জন্য উৎকোচ গ্রহণ করে।

কিন্তু পরবর্তীতে তার সাথে বনিবনা না হওয়ায় আতিকুর রহমানকেও নিয়োগ দেয়া হয় না। সূত্রটি আরো জানান, আলমগীর হোসেনকে প্রথম করতেই আগের দিন রাতেই প্রশ্ন তুলে দেন প্রধান শিক্ষক।

প্রতিদেবক আরও জানান, উক্ত প্রশ্নপত্রটি খুবই শীঘ্রই আমাদের হাতে এসে পৌছাবে। উক্ত অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, একজন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে পারে। আমার নিয়োগ এর সমস্ত কাগজপত্র ঠিক আছে।

অভিযোগ গুলো সব অবান্তর। আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেয়নি। এদিকে এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চলছে টানটান উত্তেজনা।

Print Friendly, PDF & Email
×

সারা বাংলা সারা দিন-এর সাথেই থাকুন!