দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর গ্যাস চাহিদা ২১০০ মিলিয়ন ঘনফুট

দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর গ্যাস চাহিদা ২১০০ মিলিয়ন ঘনফুট

দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর গ্যাসের চাহিদা ২ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও এর বিপরীতে পেট্রোবাংলা প্রায় ১১৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে। ফলে আগামীতে সব বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে কয়লা অথবা এলএনজি গ্যাস দিয়ে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এলএনজি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হলে তা হবে ব্যয়বহুল যার ভার গ্রাহকের ঘাড়েই বর্তাবে।

বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির সংস্থানই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়ছে। দেশীয় কয়লা উত্তোলনের ক্ষেত্রে সরকার নীতির পরিবর্তন করেনি। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এককভাবে বিদেশি উৎসের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উভয়ের দামই বৃদ্ধি করা ছাড়া কোনও বিকল্প থাকবে না।

এখন দেশে অবশিষ্ট গ্যাস দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ বছর চলবে- এমন আশঙ্কা করছে পেট্রোবাংলা। এখন থেকে গ্যাস চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে চাইলে বিদেশ থেকে তাকে এলএনজি আমদানি করে আনতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় গত বছর সরকারি-বেসরকারি খাতে এলএনজি চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিপিডিবি’র অঙ্গ প্রতিষ্ঠান নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি জার্মানির সিমেন্স, চীনের সিএমসি এবং যুক্তরাজ্যের বিপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পায়রাতে তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের এলএনজি চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। এর বাইরে বিপিডিবি যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল ইলেক্ট্রিক (জিই)-এর সঙ্গে সমান ক্ষমতার একটি এলএনজি চালিত কেন্দ্র নির্মাণের জন্য সমঝোতা স্মারক করেছে।

এছাড়া বেসরকারি খাতে সামিট গ্রুপ জিইএ’র সঙ্গে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট এবং ইউনিক পাওয়ার আরও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে এমওইউ সই করেছে। প্রাথমিক জ্বালানিতে টান পড়বে এমন ধারণা থেকেই দেশীয় গ্যাসের বদলে এলএনজিতে যাচ্ছে সরকার।

এছাড়া নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি খুলনার রূপসাতে আরও একটি এলএনজি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে ।

প্রতি ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। এখন নির্মাণ চুক্তির মধ্যে থাকা ১১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য দৈনিক এলএনজির চাহিদা দাঁড়াবে ৫৮০ মিলিয়ন ঘনফুট। যার পুরোটাই আমদানি করে মেটাতে হবে।

এ প্রসঙ্গে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এম তামিম বলেন, প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আমাদের দেশীয় জ্বালানি সরবরাহ। সাগরে ও স্থলভাগে সমানতালে অনুসন্ধান কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে খুব শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা জরুরি। সেই দরপত্রে গ্যাসের দাম অবশ্যই রিজনেবল ও আকর্ষণীয় হতে হবে।

দ্বিতীয়ত, আমাদের নিজেদের কয়লা উত্তোলন করতে হবে। বাকিটা পূরণ করতে এলএনজি আমদানি করতে হবে। এক্ষেত্রে কিছু কয়লাও আমদানি করা যেতে পারে।

বর্তমানে দুটি ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট, একটি ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট কয়লা চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ চলছে। এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র ২৪ ঘণ্টা চালাতে হলে ১০ মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন হয়।

এ হিসাবে এখন নির্মাণাধীন ৩ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট কয়লা চালিত কেন্দ্রের জন্য দৈনিক প্রয়োজন হবে ৩৮ হাজার মেট্রিক টন কয়লা। বাৎসরিক চাহিদার পরিমাণ ১ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা।

এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, সাশ্রয়ী দামে বিদ্যুৎ দিতে হলে নিজেদের কয়লার দিকে নজর দিতে হবে। আগামীতে দেশের জ্বালানি পুরোপুরি আমদানি নির্ভর হয়ে পড়ছে। যেসব বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র আসছে সেগুলোর প্রায় সবই আমদানি করা কয়লা ও গ্যাসে চালাতে হবে। ফলে খরচও বেশী হবে।

Print Friendly, PDF & Email
×

সারা বাংলা সারা দিন-এর সাথেই থাকুন!