পাকুন্দিয়ায় মুরগীর খামারের বর্জ্য’র দুর্গন্ধে অতিষ্ট এলাকাবাসী

মোঃ মুঞ্জুরুল হক মুঞ্জু, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর গ্রামের দুলাল মিয়ার লেয়ার মুরগীর খামারের বর্জ্যরে দুর্গন্ধে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। গত কয়েক বছর ধরে দুর্গন্ধের মধ্য দিয়েই দিনযাপন করছে এলাকাবাসী। খামারগুলো অপসারণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করেও কোন সমাধান পায়নি এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী জানায়, ২০০৩ সালে দুলাল মিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর গ্রামের বাবুল মিয়া, মোস্তফা মিয়া ও পিয়ার হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তির বাড়ির সামনে নিশাত পোল্ট্রি খামার নামের ৩টি লেয়ার মুরগীর খামার নির্মাণ করেন। এছাড়াও ২০০৯ সালে একই সাইনবোর্ড ব্যবহার করে একই বাড়ির সামনে আরও ৩টি খামার নির্মাণ করেছেন। প্রতিটি খামারে ৫-৬ হাজার করে লেয়ার মুরগী রয়েছে। খামারগুলো নির্মাণ করার সময় এলাকাবাসী বাধা দিলেও কারো বাধা শোনেনি তারা। এখন এসব খামারের মুরগীর বর্জ্যরে দুর্গন্ধে বাড়িতে বসবাস করা মুশকিল হয়ে পড়েছে। কয়েকবছর ধরে দুগর্ন্ধের মধ্য দিয়েই থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। খামারগুলো অপসারণ করা না হলে এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়বে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাবুল মিয়ার বাড়ির সামনে প্রায় ১০ হাত দূরে নিশাত পোল্ট্রি খামার নামে লেয়ার মুরগীর একসাথে ৩টি খামার রয়েছে। খামারগুলোর পাশেই একটি গর্তে মুরগীর বিষ্ঠা রাখা হয়েছে। বিষ্ঠার গর্তে পানি জমে কিড়া ও মাছি কিলবিল করছে আর দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

ওই বাড়ির বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন, মুরগীর বর্জ্যরে দুর্গন্ধে ঘরে থাকা যায় না। রোদ উঠলে বাতাসে দুর্গন্ধ আরও বেশি ছড়ায়। এছাড়াও মুরগীর উচ্চ শব্দের কারনে রাতে ঘুমানো যায় না।

বাড়ির গৃহবধু হাজেরা খাতুন বলেন, দুর্গন্ধের কারনে বমি আসে। বর্ষাকালে ঘরের ভেতরে মাছি ও কিড়া ঢুকে চলাফেরা করে। তখন ঘরে বসে খাওয়া দাওয়া করা যায় না। দুর্গন্ধের কারনে আমাদের বাড়িতে আত্মীয় স্বজন আসা বন্ধ করে দিয়েছে। দুর্গন্ধ ও মুরগীর উচ্চ শব্দের কারনে ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করতে পারছে না। আমরা এই মুরগীর খামারগুলো সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

পাশের বাড়ির পেয়ার হোসেন বলেন, খামারগুলো আমাদের বাড়ির সামনে থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একাধিকবার লিখিত আবেদন করেছি। কিন্তু কোন প্রতিকার পাইনি।

খামারের মালিক দুলাল মিয়ার ছেলে এমদাদুল হক তাদের খামার থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, দুর্গন্ধ যাতে না ছড়ায় সে ব্যবস্থা আমাদের করা আছে।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ হাসান বলেন, সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মো. সুমন কাজির কাছে এ বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Print Friendly, PDF & Email
×

সারা বাংলা সারা দিন-এর সাথেই থাকুন!