মহাস্থানগড়ে মৌর্য, সেন ও গুপ্ত আমলের প্রত্নতত্ব আবিস্কার

বগুড়ার মহাস্থানগড়ে তিন বছর আগেই ফ্রান্স-বাংলাদেশ যৌথ খননে বেরিয়ে আসে গুপ্ত আমলের নানা সামগ্রী। একই স্থানে গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া খননে আরো কিছু প্রত্ন সামগ্রী বেরিয়ে এসেছে। প্রত্নতাত্ত্বিকরা এগুলো ষষ্ঠ থেকে একাদশ শতাব্দীর বলে ধারণা করছেন। এ সময়টা মূলত মৌর্য, সেন ও গুপ্তদের শাসনামল।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা জানান, গত ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে খনন শুরু হয়েছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত খনন কাজ চলবে। আট জনের একটি দল অত্যন্ত সাবধানে কাজ করছেন। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এ খনন কাজে এ পর্যন্ত বেশ কিছু প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে- মৃৎপাত্রের ভগ্নাংশ, তৈলপাত্র, পোড়া মাটির বাটি ও পোড়া মাটির গুটিকা। তিনি বলেন, পূর্বের খনন থেকে অনুমান করা যায়, প্রাপ্ত সামগ্রীগুলো গুপ্ত আমল থেকে বিভিন্ন যুগের নিদর্শন। আর যে অবকাঠামোর সন্ধান পাওয়া গেছে তার সঙ্গে গুপ্ত আমলের মিল রয়েছে।

বগুড়ার মহাস্থানগড়ের জাদুঘর এবং মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ানের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মহাস্থানগড়ে নব্বইয়ের দশক থেকে বিভিন্ন সময়ে খনন কাজ চলেছে। বর্তমানে ২০তম খনন চলছে। মহাস্থানগড়ের বৈরাগীর ভিটা নামক স্থানে খনন চলছে। খননকাজে অংশ নেয়া কর্মকর্তারা বলছেন, বেশ কিছু পোড়া মাটির ফলক, পাত্র ও কিছু ভগ্নাংশ পাওয়া গেছে। এসব সামগ্রীর সঙ্গে গুপ্ত আমল থেকে শুরু করে একাদশ শতাব্দির বিভিন্ন নির্মাণশৈলীর মিল রয়েছে। আর অবকাঠামোর সঙ্গে মন্দিরের কিছুটা মিল রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গনগরী ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান মহাস্থানগড়ে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের যৌথ খননকাজে বেরিয়ে আসে গুপ্ত আমলের নানা নিদর্শন। ২০১৫ সালের ৩০ জানুয়ারি শেষ হয় এই ১৯তম খননকাজ। মাসব্যাপী খননকাজে ইটের তৈরি অবকাঠামো, নর্দার্ন ব্ল্যাক পলিশড ওয়্যার (এনবিপিডব্লিউ) বা উত্তরাঞ্চলীয় চকচকে কালো মৃৎপাত্রের টুকরা, ইটের তৈরি দেয়াল, নকশা করা ইট, টালি, কাচের গুটিকা, মাছ ধরার জালে ব্যবহারের জন্য তৈরি পোড়া মাটির বল, ফুলাঙ্কিত ও পিরামিড আকারের নকশা করা ইটসহ নানা ধরনের নিদর্শন পাওয়া যায়

Print Friendly, PDF & Email
×

সারা বাংলা সারা দিন-এর সাথেই থাকুন!