সাতক্ষীরায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

জলাবদ্ধতা দূর করতে সাতক্ষীরা শহরের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ প্রাণ সায়ের খালের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। টানা চারদিন ধরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় এ উচ্ছেদ অভিযান চলছে।

এদিকে প্রশাসনের এই উচ্ছেদ অভিযানে লাখ লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে প্রশাসন বলছে, প্রাণ সায়ের খালের পাশে গড়ে ওঠা ২২৯টি অবৈধ স্থাপনার তালিকা প্রস্তুত করে দোকানের মালপত্র সরিয়ে নিতে আগেই নোটিশ দেয়া হয়েছিল।

গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরার সুলতানপুর মাছ বাজার এলাকা থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান জানান, আকষ্মিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ায় কেউ দোকানের মালপত্র সরিয়ে নিতে পারেননি। স্থাপনা তো গেছেই, তাছাড়া মালপত্র মিলে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে ব্যবসায়ীদের

মাছ ব্যবসায়ী মো. নুরুল আমিন বলেন, এখানে থাকা ৫০টি দোকান ভেঙে দেয়া হয়েছে। এসব দোকানের এখনও পৌরসভা থেকে নেয়া ইজারার মেয়াদ রয়েছে। তারই মধ্যে দোকানঘরগুলো ভেঙে দেয়ায় ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হলো। আমরা এই লাখ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।

প্রাণ সায়ের খাল দ্রুত খননের দাবি জানিয়ে সাতক্ষীরা মাছ বাজার সমিতির সভাপতি আব্দুর রব বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে খালটি খনন করা প্রয়োজন। শনিবার থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। টানা চার দিন ধরে উচ্ছেদ চলছে। আমাদের একটাই দাবি খালটি যেন দ্রুত খনন করা হয়। তা না হলে যেসকল ব্যবসায়ীর ক্ষতি হচ্ছে তাদের কাছে এই প্রশাসন দায়বদ্ধ থাকবে।

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকারী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইন্দ্রজিত সাহা জানান, প্রাণ সায়ের খাল খনন করে জলাবদ্ধতার হাত থেকে সাতক্ষীরার মানুষকে রক্ষা করতে এ উচ্ছেদ অভিযান চলবে। খালের তীরে গড়ে ওঠা ২২৯টি অবৈধ স্থাপনার তালিকা প্রস্তুত করে স্থাপনা সরিয়ে নিতে আগেই নোটিশ করা হয়েছিল। গত এক সপ্তাহ শহরজুড়ে মাইকিং করা হয়েছে তবুও এসব ব্যবসায়ী মালপত্র সরিয়ে নেননি।

তিনি বলেন, যতদিন প্রাণ সায়ের খালের দুই ধারে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শেষ না হবে ততদিন জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এই অভিযান চলবে।

Print Friendly, PDF & Email
×

সারা বাংলা সারা দিন-এর সাথেই থাকুন!