সুন্দরগঞ্জে চুরির অভিযোগে কিশোরকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন: গ্রেফতার-২ (ভিডিও)

এমএ মাসুদ, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে গরু চুরির অভিযোগে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় রাফিকুল ইসলাম ওরফে রাফি (১৩) নামের এক কিশোরকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগে রানা মিয়া (৩০) ও আজিজল হক (৫০) নামে ২ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গুরুতর আহত রাফি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সোমবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত রানা মিয়া ও আজিজল হককে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, এরআগে গত শনিবার ভোরে উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণ ধুমাইটারি গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে রাফিকে তার শয়ন ঘরের বিছানা থেকে কৌশলে প্রতিবেশী ফজলুল হকের হকের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেঁধে পরদিন সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় ব্যাপকভাবে মারপিটসহ অমানুসিক নির্যাতন করে নির্যাতনকারীরা। এ ঘটনায় রাফির বড়ভাই রফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। স্থানীয়রা জানান, আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার সময় শতাধিক লোক থাকলেও কেউ রাফিকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসার সাহস পায়নি। তবে, রাফির মা রওশনারা বেগম ছেলে রাফিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাকেও ছাড়েনি নির্যাতনকারীরা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অসুস্থ রাফির সাথে কথা হলে জানায়, সে ৭ম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে। ঘটনার আগের রাতে (শুক্রবার দিনগত রাত) প্রতিবেশী কাজিমুদ্দিনের জামাই আব্দুর রহিম তার জ্যাঠা শ্বশুর নজু মিয়ার একটি গরু স্থানীয় চাঁদের মোড় থেকে শ্যালো ইঞ্জিন চালিত একটি ভটভটিতে তুলে নিয়ে তার বাড়ি বেলকা গ্রামে নিয়ে যেতে আমার সহযোগিতা চায়। আমি তাকে সহযোগিতা করি। তবে গরুটি কার তা আমার জানা নাই। এরপর আমি বাড়ি এসে খাওয়া-দাওয়া শেষে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়লে আসামীরা আমাকে অন্য একটি ঘটনার কথা বলে ফজলু মিয়ার বাড়িতে নিয়ে যায়। এসময় ফজলু মিয়াও সাথে ছিল। ফজলু মিয়ার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আমার হাত-পা বেঁধে গরু চুরির কথা বলে আজিজল হক, বাবলু মিয়া, আয়নাল হক, নাজমুল হকসহ সকলেই আমকে অমানুসিক নির্যাতন করে। আমার মা আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তারা আমার মাকেও মারপিট করে। পরদিন (শনিবার) সকালে একই কায়দায় আমাকে মারপিট করতে থাকলে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। এরপর আমি আর কিছুই বলতে পারি না।

রাফির মা রওশনারা জানান, তার ছেলে রাফিকে মার-ডাং করার সময় অনেকেই সেখানে থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। ঘটনা সহ্য করতে না পেয়ে আমি ছেলেকে (রাফিকে) বাঁচাতে গেলে আমাকেও মারপিট করে। এরপর রাফি অজ্ঞান হয়ে পড়লে ওরা (নির্যাতনকারীরা) ছেড়ে দিলে আমি এনে রাফিকে হাসপাতালে ভর্তি করাই।
মামলার বাদি কিশোর রাফির বড় ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, এরা পূর্ব থেকেই শত্রæতা পোষণ করে আসছিল। একটি আমগাছের ডাল কেটে দেয়ার সময় তনু, তুহিন ও তাজু প্রামানিককে বাধা দিতে গেলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তখন থেকে শত্রæতা মূলক তাদের বাড়ির পাশ দিয়ে রাস্তাও বন্ধ করে দেয়ার নানান তৎপরতা চালায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রজন্মলীগের সভাপতি ও মামলার আসামী তাজুল ইসলাম ওরফে তাজু মেম্বার বলেন- তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান বা থানা পুলিশে সোপর্দ্দ করার কথা বলতে গিয়ে এ মামলার আসামী হয়েছেন। তিনি আরও জানান, রাফি অত্যন্ত দুষ্ট প্রকৃতির ছেলে। নানান কু-কর্মের জন্য রাফির প্রতি স্থানীয় মানুষজন অনেক ক্ষিপ্ত।

থানা অফিসার ইনচার্জ- আব্দুল্লাহিল জামান জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ২ জন আসামীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। অন্য আসামীদেরকে গ্রেফতারের অভিযান চলছে।

Print Friendly, PDF & Email