কম্পিউটার গেম আসক্তি

বর্তমান সময় অবাধ তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগের। তথ্যপ্রযুক্তির শ্রেষ্ঠ উপকরণ হিসেবে কম্পিউটারকে ধরা হয়। যা সব দেশে শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী ব্যক্তিই ব্যবহার করতে পারে। কম্পিউটারের আবিষ্কার মূলত গণনার জন্য হলেও আজ তার কাজের পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত।  কম্পিউটার দিয়ে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক,  প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয়সহ সর্বপ্রকার কাজ অল্প সময়ে অধিক নির্ভুলভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। কম্পিউটার কাজের পাশাপাশি চিত্ত বিনোদন ও অবসর সময়ে আনন্দদানের মাধ্যমও বটে।

বর্তমান সময়ে প্রতিটি যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার হচ্ছে। পরিবার সদস্য বাবা, মা ও সন্তান। বাবা,  মা কর্মজীবী হওয়ায় সন্তানের দেখাশোনা ঠিকভাবে হচ্ছে না। দিন দিন খেলার মাঠ কমে যাচ্ছে। সামাজিক বন্ধন,  মায়া-মমতা, প্রীতি-ভালোবাসা হারিয়ে যাচ্ছে। দিন দিন মানুষ এককেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে শিশু-কিশোররা কম্পিউটার, স্মার্টফোন ব্যবহার করছে। সেখানে তারা বিভিন্ন রকম গেম খেলে অবসর সময় পার করছে। কখনো কখনো শিশু-কিশোররা অজান্তে ধীরে ধীরে গেমসে আসক্ত হচ্ছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে হত্যা, যুদ্ধ দৃশ্য সংবলিত উন্নত গ্রাফিক্সের গেম। সম্প্রতি Blue Whale নামক গেমের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আত্মহত্যার কথা শোনা যাচ্ছে। যে গেমে  বিভিন্ন লেভেল পার করার জন্য নানা রকম কাজ করতে হয় ও সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে আত্মহত্যা। বাংলাদেশেও এর কারণে আত্মহত্যার কথা পত্রপত্রিকায় আসছে।

কম্পিউটার গেম অবসর সময়ে বিনোদনের মাধ্যম হলেও মাত্রাতিরিক্ত খেললে তা আসক্তির পর্যায়ে পড়ে। যা অনেক সময় ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শিশু-কিশোর কম্পিউটারে কী করছে, কতক্ষণ সময় ব্যয় করছে তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ইনডোর ও আউটডোর খেলার ব্যবস্থা করতে হবে। সামাজিক উত্সব ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবীমূলক কাজে অংশগ্রহণে উত্সাহিত করতে হবে। যেসব শিশু-কিশোর আসক্ত হয়ে পড়েছে তাদের মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে কাউন্সিলিং করতে হবে। অভিভাবকদের সচেতনতাই পারে শিশু-কিশোরদের গেম আসক্তি দূর করতে।

 রাত জেগে কম্পিউটার চালানো স্বাস্থ্যের জন্য ভীষন ক্ষতিকর।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published.

×

সারা বাংলা সারা দিন-এর সাথেই থাকুন!